ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত শিশু হোসাইনের মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আজ শুক্রবার দুপুরে দাউদকান্দি থানার সামনে:
‘আমার পুলার কী অইয়া গেল! আমারে কে মা বইলা ডাকবে? আমার কইলজাডারে ছাড়া আমি ক্যামনে থাকমু, ক্যামনে বাঁচমু? বাবারে–মারে রাইখা তুই ক্যামনে চইলা গেলি?’
কুমিল্লার দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার সামনে একটি পিকআপে বসে এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু মো. হোসাইনের (২) মা শাপলা আক্তার।
আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির বানিয়াপাড়ায় বাস দুর্ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মাধেরচর গ্রামের মো. হোসাইনসহ আরও তিনজন নিহত হন। তাঁরা হলেন দাউদকান্দি উপজেলার পূর্বপেন্নাই গ্রামের মো. শামীম (৩৮) ও তাঁর ছেলে মো. নাদিফ (৬)। তবে দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহত অজ্ঞাত এক নারীর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহত হোসাইনের বাবা সুমন মিয়া বলেন, হোসাইন ছিল তাঁদের একমাত্র সন্তান। তাকে সঙ্গে নিয়ে আজ সুমন তাঁর শ্বশুর ইমান আলীর শ্বশুরবাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মধ্যমগ্রামে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বাস উল্টে তাতে আগুন লেগে হোসাইন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং তিনি ও তাঁর স্ত্রী আহত হন। উদ্ধারকারীরা বাস থেকে তাঁদের বের করে আনতে পারলেও ছেলেটিকে উদ্ধার করতে পারেননি।
নিহত শামীম হোসেনের বাবা সামছুল আলম জানান, শামীম ছেলে নাদিফকে নিয়ে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী থেকে বানিয়াপাড়ায় জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে বাসের চাপায় ও আগুনে দগ্ধ হয়ে দুজনই মারা যান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘পুতও গেল, নাতিও গেল, আল্লায় আমার কী রাইক্কা গেল? পুত রে, তোরে ছাইড়া আমি ক্যামনে বাঁচমু?’
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!