ছবি: সংগৃহীত
ইয়োহানেস ভেরমিইর প্রায় ১৪ বছর পর আবার জাপানে আসছেন। তবে নিজ অবয়বে নয়। কারণ, সেটা যে সম্ভব নয়। প্রায় ৪০০ বছর আগে জন্ম নেওয়া ওলন্দাজ এই শিল্পীর পক্ষে নিজে এসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব না হলেও যে কীর্তি তিনি রেখে গেছেন তারই একটি আবার দেখার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন জাপানের শিল্প অনুরাগী ও ভেরমিইরের ভক্তরা।
এই শিল্পকর্মের নাম হচ্ছে ‘মুক্তার কানের দুল পরা বালিকা’। শিল্পী যেখানে কালো রঙের প্রেক্ষাপটে একদিকে মাথা বাঁকিয়ে অনেকটা যেন সরাসরি বিশেষ কারও দিকে মায়াবী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা সহজ-সরল এক তরুণীকে ছবিতে তুলে ধরেছেন, যার বাঁ দিকের কানে ঝুলে থাকা বড় আকারের মুক্তার দুল সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে।
মাতা মেরিকে নিয়ে আঁকা ছবি এটি নয়, নয় কোনো সন্ত বা ধর্মগুরুকেও মূল দৃশ্যপটে রাখা ছবি। সেই সময়ে ধর্মীয় বিষয়বস্তু শিল্পকর্মের যেন একমাত্র প্রচলিত ধারা ছিল। ভেরমিইরের অধিকাংশ ছবিতে ব্যতিক্রমী প্রবণতা দেখা গেছে। শিল্পীর এই চিত্রকর্ম যেন জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে।
ভেরমিইরের জন্ম ১৬৩২ সালের অক্টোবর মাসে নেদারল্যান্ডসের ডেলফটে। একই শহরে তাঁর মৃত্যু ১৬৭৫ সালে। নিজের শহর ডেলফটেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
এই শিল্পীর জীবনের বিস্ময়কর একটি দিক হচ্ছে এ রকম, তাঁর সমকালীন এবং এমনকি পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া শিল্পীদের অনেকে ধর্মীয় অনুরাগে তাড়িত হয়ে যখন বাইবেলে বর্ণিত বিভিন্ন কল্পকাহিনি নিয়ে ছবি আঁকায় ব্যস্ত ছিলেন, ভেরমিইর তখন নজর দিয়েছেন সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনের বর্ণনা রং-তুলিতে ফুটিয়ে তোলার মতো জীবনভিত্তিক ছবি ক্যানভাসের পর্দায় তুলে আনার মতো কাজ।
ভেরমিইরের জীবন নিয়ে গবেষণা ও তাঁর সৃষ্টির যথাযথ মূল্যায়নের দিকে নজর দেওয়া বিশ্বের নেতৃস্থানীয় শিল্প গবেষকদের অনেকেই বলছেন, যৌবনে ধর্মীয় অনুপ্রেরণার ছবি আঁকার দিকে তিনি মনোনিবেশ করলেও একসময় তা হঠাৎ করেই বাঁক–বদল নেয়। এরপরই বিশ্বের প্রথম একজন বাস্তবধর্মী শিল্পী হয়ে ওঠেন তিনি।
তবে কেন ও কোন ঘটনা থেকে জীবনে এমন এক বাঁক-বদল ভেরমিইরকে নিতে হয়েছিল, সে বিষয়ে খুব বেশি জানা যায় না। আজও যে খুব বেশি কিছু তাঁর জীবন সম্পর্কে জানা গেছে, তাও অবশ্য নয়।
একইভাবে ৪৩ বছরের প্রায় সংক্ষিপ্ত জীবনে ভেরমিইরের আঁকা নানা বিষয়বস্তুর ছবির বড় এক অংশ একেবারেই হারিয়ে গেছে। বলা হয়, যেসব ছবি তাঁর আঁকা বলে নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা গেছে, সে রকম ছবির সংখ্যা হচ্ছে মাত্র ৩৮টি। এসব চিত্রকর্মের একটি হচ্ছে মুক্তার দুল পরা সেই বালিকার ছবি।
নেদারল্যান্ডসের দি হেগে অবস্থিত রাজকীয় আর্ট গ্যালারি হচ্ছে এই ছবিসহ ভেরমিইরের আঁকা তিনটি ছবির মালিক। সংস্কারকাজ চলার কারণে গ্যালারি এখন সাময়িকভাবে বন্ধ। এ সুযোগে জাপানের নেতৃস্থানীয় দৈনিক আসাহি শিম্বুন, ওসাকার নাকানোশিমা শিল্পকলা জাদুঘর এবং আসাহি টেলিভিশন যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।
১৪ বছর আগে ২০১২ সালে টোকিও মেট্রোপলিটন শিল্পকলা জাদুঘরে আয়োজিত প্রদর্শনীতে শেষবার জাপানে চিত্রকর্মটির প্রদর্শনী দেওয়া হলে প্রায় ১২ লাখ দর্শক এটা দেখেছিলেন। এবার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে ওসাকার নাকানোশিমা শিল্পকলা জাদুঘরে এবং এ বছর ২১ আগস্ট থেকে এক মাসের সামান্য বেশি সময় ধরে প্রদর্শনী চলবে।
জাপান
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!