ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার বলেছেন, টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমাবেশের পরও ইসলামিক রিপাবলিক বিক্ষোভের মুখে ‘পিছু হটবে না’। এ সময় তিনি ‘ট্রাম্পের পতনের’ ভবিষ্যদ্বাণীও করেন। এই আন্দোলন দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’সহ নানা স্লোগান দিতে দিতে এবং সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে নেতৃত্ববিরোধী জনতা প্রধান প্রধান শহরগুলোতে মিছিল করে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানায়, কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তারা শুক্রবার ভোরে জানায়, ‘ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি এখন ১২ ঘণ্টা ধরে অফলাইনে রয়েছে।’
এই বিক্ষোভ ইসলামিক রিপাবলিকের চার দশকের বেশি সময়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে; আন্দোলনকারীরা প্রকাশ্যেই ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান দাবি করছেন।
তবে ৩ জানুয়ারি থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠা বিক্ষোভ নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রথম বক্তব্যে খামেনি চ্যালেঞ্জিং সুরে কথা বলেন।
তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ বলে আখ্যা দেন।
খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ‘এক হাজারেরও বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত’—ইঙ্গিত করে তিনি জুনে ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও নিজস্ব হামলার কথা বলেন।
তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘অহংকারী’ মার্কিন নেতা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ইরান শাসন করা রাজবংশের মতোই ‘পতিত’ হবেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত, মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো বিশ্ব স্বৈরশাসকরা তাদের অহংকারের চূড়ায় পৌঁছেই পতনের মুখে পড়েছিল।
তাকেও একদিন পতন বরণ করতে হবে।’
সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বলেন, ‘গত রাতে তেহরানে কিছু ভাঙচুরকারী এসে নিজেদেরই একটি ভবন ধ্বংস করেছে—মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য।’ এ সময় উপস্থিত নারী-পুরুষরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন।
তিনি বলেন, ‘সবাই জানে ইসলামিক রিপাবলিক অসংখ্য সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; নাশকতাকারীদের মুখে এটি পিছু হটবে না।’
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বলেন, ‘ওই শাসন উৎখাত করার উদ্দীপনা অবিশ্বাস্য’ এবং সতর্ক করেন—ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে ‘আমরা খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব। আমরা প্রস্তুত।’
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো বলেন, ৮৬ বছর বয়সী খামেনি হয়তো ইরান ছাড়ার পথ খুঁজছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছেন।’
ট্রাম্প
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!