বাংলাদেশ   রবিবার ১১ জানুয়ারি ২০২৬, রবিবার ২৭ পৌষ ১৪৩২

চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ কী, আক্রান্ত হলে কী করবেন

মো: নাঈমুর রহমান

প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৭ PM

চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ কী, আক্রান্ত হলে কী করবেন

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর সঙ্গে চিকুনগুনিয়ার উপসর্গে মিল রয়েছে, ফলে রক্ত পরীক্ষা করা জরুরি

চিকুনগুনিয়া একটি মশাবাহিত রোগ, যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এর প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর, জয়েন্টে তীব্র ব্যথা এবং ফুসকুড়ি। চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচতে মশা থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া মশার কামড় থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এডিস ইজিপ্টি এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বাহক। এই মশাগুলো দিনের বেলায় কামড়ায়। এই মশা যখন কোনো চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ায়, তখন সেই মশাটি ভাইরাস বহন করে। এরপর সেই মশা যখন অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই ব্যক্তিও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন।

চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ

জ্বর: হঠাৎ করে জ্বর আসা। জ্বর ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে।

শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে তীব্র ব্যথা: বিশেষ করে হাত ও পায়ের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হয়।

শরীরে ফুসকুড়ি ওঠা: সাধারণত জ্বর আসার কয়েকদিনের মধ্যে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা যায়।

মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি ইত্যাদি উপসর্গও দেখা যেতে পারে।

চিকুনগুনিয়ার আরও যেসব লক্ষণ দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে, মাংস পেশি ও মাথা ব্যথা। অস্থি সন্ধির ব্যথা খুব তীব্র হতে পারে যা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

চিকুনগুনিয়া হলে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন: বিশ্রাম নিলে শরীর দ্রুত সেরে উঠবে।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন: শরীরে পানির অভাব হলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে, তাই প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন।

ব্যথা কমানোর ওষুধ: প্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন, তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।

মশার কামড় থেকে বাঁচুন: মশার বিস্তার রোধ করতে ব্যবস্থা নিন। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহার করুন, লম্বা হাতা জামা পরুন এবং মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার করুন।

সাধারণত দুই থেকে তিনদিনেই রোগী সুস্থ হতে শুরু করে। আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস থাকে। ডেঙ্গুর সঙ্গে চিকুনগুনিয়ার উপসর্গে মিল লক্ষ করা যায়। এই কারণে চিকুনগুনিয়াকে ডেঙ্গু বলে ভুল হতে পারে। রক্তের সিরাম পরীক্ষা করে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। জীবনে একবার এই রোগ হলে পরবর্তীতে আর হয় না।

প্রতিরোধ

মশার বিস্তার রোধ করা: আপনার আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না। জমে থাকা পানিতে মশা ডিম পাড়তে পারে

মশার কামড় থেকে বাঁচুন: ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন, দিনে ঘুমালে কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করুন।

জমা পানি সরিয়ে ফেলুন: ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার এবং অন্যান্য পাত্র থেকে পানি সরিয়ে ফেলুন।

বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখুন।

 

 

 

স্বাস্থ্য লাইফস্টাইল মশা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!